গরম 'চা' য় তুফানি চুমুক না দিলে মেজাজের বদল ঘটে না। এমনই ধারণা পোষণ করেন আপামর বাঙালি। শীত হোক আর বর্ষা, আড্ডা হোক সভা সমাবেশ, সবেতেই গরম পেয়ালায় চা না'হলে জমে না। অর্থাৎ বাঙালী মানে যেমন আড্ডা প্রিয় তেমনই তার যোগ্য সঙ্গী হল গরম 'চা' । আর সেই গরম চা'তে যদি হয় তুফানি চৈত্র সেল, তাহলে তো কথাই নেই। ইদানিং আপামর বাঙালী মুখিয়ে থাকে চৈত্র সেলের দিকে।
প্রসাধনী থেকে বস্ত্র কিংবা শাড়ি থেকে নিত্য নতুন ডিজাইনের নানা রঙের জুতো। সেলের বাজারে আজ আর কোনও কিছুই বাদ নেই। এতদিন এসব জিনিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল চৈত্র সেল। চৈত্র সেলের বাজারে নবতম সংযোজন গরম ভাঁড়ে গরম চা। নবদ্বীপ প্রতাপনগর হাসপাতালের গেটে ঢুকতেই নজরে পড়বে ব্যানার্জিদা'র গরিব টি স্টল। টি স্টল টি চালান প্রতাপ নগর বিবেকানন্দ লেনের বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নর শিশির ব্যানার্জি। শিশির বাবু গত বছর থেকে শুরু করেছেন চায়ের উপর চৈত্র সেল। "চায়ের উপর চৈত্র সেল"? তাও তিন টাকার বিনিময়ে এক কাপ চা সঙ্গে একটি বিস্কুট। উপরি পাওনা এক কাপ চা খেলেই সাথে সাথে একটি লাকী কুপন পাবে জনতা। সেই কুপনে ড্র হবে নতুন বছরের প্রথম দিন শুভ পয়লা বৈশাখে। শিশির বাবু জানান, ১৯৮২ সালে হাসপাতালের গেটের এক পাশে চায়ের দোকান খুলি।
এই ভেবে যে, নবদ্বীপের পার্শবর্তী পূর্বস্থলী অঞ্চলের বহু গরিব ও বিপদগ্রস্থ মানুষ আসেন এই হাসপাতালে। বহু রোগীর পরিবারের সামর্থ হয়না বেশি চা বিস্কুট খাওয়ার। কারণ এক একটি চা বিস্কুট খেতে লেগে যায় প্রায় সাতটি টাকা। তিনি বলেন, সেই সব গরিব মানুষের কথা ভেবে নূন্যতম তিন টাকায় চায়ের দাম ধার্য করি। সারাটা বছর ধরে তিন টাকায় শুধু চা মিললেও চৈত্রের শুরুতেই সেটা হয়ে যায় দুটাকায়। সঙ্গে একটি বিস্কুট যোগ করে কাস্টমার থেকে নেওয়া হয় তিন টাকা। উপরি পাওনা লাকী কুপন। শিশির বাবু জানান, নতুন বছরের শুরুতেই পয়লা বৈশাখের দিন কুপনের ড্র হবে। সেখানে প্রথম পুরস্কার থাকছে স্ট্যান্ড ফ্যান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার যথাক্রমে সিলিং ফ্যান ও টেবিল ফ্যান। এছাড়াও থাকছে তিনশোটি সান্তনা পুরস্কার। এক কথায় বলতেই হয় ভোটের বাজারে চৈত্র সেলে চা কে যুক্ত করে নয়া চমক সৃষ্টি করলেন গরিবের দাতা গরিব টি স্টলের কর্ণধার শিশির ব্যানার্জি।



No comments