মোদী সরকারকে হরিদাস, কৃতদাস, অর্ধ শিক্ষিত, গর্ধ শিক্ষিত বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় - VD

Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মোদী সরকারকে হরিদাস, কৃতদাস, অর্ধ শিক্ষিত, গর্ধ শিক্ষিত বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাট সানঘাটা সংলগ্ন শ্রীকৃষ্ণপুর পাখুরিয়া গ্রামের মাঠে সরকারি সভা মঞ্চ থেকে এভাবেই মোদী সরকারকে কটাক্ষ করলেন মমতা। সেই সঙ্গে মোদীকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন আর মাত্র একমাস তোমাদের মেয়াদ।
বুধবার ছিল মুখ্যমন্ত্র…

 মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাট সানঘাটা সংলগ্ন শ্রীকৃষ্ণপুর পাখুরিয়া গ্রামের মাঠে সরকারি সভা মঞ্চ থেকে এভাবেই মোদী সরকারকে কটাক্ষ করলেন মমতা। সেই সঙ্গে মোদীকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন আর মাত্র একমাস তোমাদের মেয়াদ।
বুধবার ছিল মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি জন্য সভা। সভায় ৮৮ টি প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন ও পরিষেবা প্রদান করেন। সরকারি মঞ্চে আগাগোড়া মোদী সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলনে, “দিল্লির সরকার মিথ্যা কথা বলে মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। ওরা যত খুশি মিটিং করুক। ওরা একটা মিটিং করলে আমাদের কর্মীরাও পরের দিন মিটিং করতে পারে। কিন্তু ওরা মিটিং করার পর গাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী ও স্কুলের বাস ভেঙে দিচ্ছে। ওরা রাজনীতি করার যোগ্য না সরকার চালানোর যোগ্য? মনে রাখবেন ৩৪ বছর লড়াই করে এখানে এসেছি। লড়াই করে ক্ষমতায় আসার পরও একটা দিন ঘুমোতে পারেনি। কারণ প্রতিদিন বাংলায় কাজ করতে হয়। শস্য বিমার জন্য ৬২৫ কোটি টাকা গত বছর দেওয়া হয়েছে। আর তুমি দালালি করে ছবি পাঠিয়ে দিচ্ছ। ব্যাঙ্কটা তোমার হাতে বলে? পোষ্ট অফিসে থেকে মিথ্যা কথা বলাচ্ছ। সবটাই মিথ্যা কথা। কৃষকদের বিমার টাকা আমাদের রাজ্য সরকার দেয় চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম। ক্ষমতা থাকলে বা মিথ্যা কথা বললে আমার গর্দান কেটে নেবে। কৃষি জমিতে খাজনা মুকুব করে দিয়েছি। আগে ৬৫ হাজার কৃষক পেনসন পেত। আমরা বাড়িয়ে এক লক্ষ করেছি। ওদের ভাতা সাতশো থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ করে দিয়েছি”।
আমাদের এখানে সরস্বতী পুজো, কালী পুজো, দুর্গা পুজো, বড়দিন হয়। হরিদাস সব কৃতদাস, কয়েকটা বন্ডেট লেবার, দাঙ্গাবাজ, খুন করে ক্ষমতায় এসেছে। বাংলায় নাকি দুর্গা পুজো করতে দেওয়া হয় না। হয় প্রমান করবেন না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। আমি প্রমান করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পুজো হয়। তোমারা কেন বলছো বাংলায় দুর্গা পুজো হয় না”? এরপরেই দিল্লির সরকারকে হুমকির সুরে বলেন, “আজ মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু দিনে বলে যায় বাংলাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা মহাত্মা গান্ধিকে মেরে ফেলেছে তারা আজকে সাধুর ভূমিকা পালন করছে। বড় বড় কথা বলছে। বাংলার মাটি পথ দেখায়। বাংলার মাটি আগেও পথ দেখিয়েছে। আগামী দিনেও পথ দেখাবে জেনে রেখো। বাংলা মাথা নত করে না। বাংলা নিজেকে বিকিয়ে দেয় না। বাংলাকে ধমকে, চমকে লাভ নেই। সিবি আই দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা লড়ে নেব। আমরা করে দেখায়। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিই না। ওরা অর্ধ শিক্ষিত না গর্ধ শিক্ষিত জানি না। অর্ধ শিক্ষিত গর্ধ শিক্ষিতরা কেউ কেউ এসে বলে যাচ্ছে কন্যাশ্রী প্রকল্প নাকি আমরা অনুকরন করেছি। আমি সরকারি সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অর্ধ শিক্ষিত না গর্ধ শিক্ষিতদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি কন্যাশ্রী চালু হয়েছিল ২০১৩ সালে। আর আপনাদের ১০০ কোটি টাকার বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও নাটের গুরুর প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। মনে রাখবে আমরা আপনাদের টুকলি করি না। আপনারা আমাদের টুকলি করে কাজটাও করতে পারেন না। মোদীর সরকার সারা দেশে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। একটা মেয়ে তিন পয়সাও পাবে না। আমাদের রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। আমরা তিন পয়সা ভিক্ষা দিই না। আমরা তাদের পড়াশোনার খরচ ছালিয়ে দিই। যত রাগ বাংলার উপরে। গুণ্ডামি হচ্ছে। মিথ্যা কথা বলছে। বাংলার পুজোকে অপমান করছেন। কখন বলছেন বাংলার লোককে তাড়িয়ে দেব। বাংলার একটা লোকের গায়ে হাত দিয়ে দেখুন তারপর বুঝবেন। মাথায় রাখবে ওত সহজ নয়। ভাসন দিলেন আর চুরি, ডাকাতি করার টাকা নিয়ে আসবেন। কয়েকটা গুন্ডাকে নিয়ে বলে দিচ্ছে কখন নির্বাচন হবে। কটা আসন পাবে। কটার সমর ফলাসল বের হবে। নির্বাচন কমিশনটাও মনে হচ্ছে বিজেপি চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উপর বিশ্বাস আছে। আমি মনে করি নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে কবে নির্বাচন হবে, কবে গননা হবে। মানুষ ভোট দিয়ে ফলাফল ঠিক করবে। তুমি কি করে বলে দিচ্ছ হরিদাস, অর্ধ শিক্ষিত, গর্ধ শিক্ষিত। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি লোকসভায় এরাজ্যে ৪২ শে শূন্য পাবে”। তিনি আরও বলেন, “যিনি মানুষের সঙ্গে থাকেন তিনিই নেতা। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে নেতা তৈরি হয়। বাংলার মাটি সোনার মাটি। আমাদের সিবি আই দেখিয়ে লাভ নেই। আগামী দিন যে আয়নায় মুখ দেখাচ্ছ সেই আইনায় তোমাদেরও দেখতে হবে। আমাদের পিছু টান নেই। আমরা চালুন নয় সুচ। তোমরা চালুন। একটা রাফেল, নোটবন্দি, জি এস টি বের হবে তোমাদের গেল গেল হবে। মোদিবাবু বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ছবি বিক্রি করে টাকা নিয়েছে। একটা পয়সা আমার আকাউন্টে নিয়েছি প্রমান করুণ। অসভ্যের মতো কথা বলে। নুন্যতম ভদ্রতা জানে না ওরা। দলীয় ভাবে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমাদের রাজ্য সরকারের হাতেও সি আই ডি, এস টি এফ আছে। অনেক এজেন্সি। ভাববেন না চুপ করে মুখ বুজে সহ্য করে নেব। শিশু চুরির ঘটনায় অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্যাস কেলেঙ্কারিতে আপনাদের নেতারা জড়িয়ে। মহিলা নির্যাতন মামলা। প্রতিটি বিরোধী দলের রাজ্য গুলিতে বিকল্প প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য। আমরা কিন্তু মোরিনি। আমরা মরব না। আপনার আয়ু আর এক মাস”।

No comments