মানুষের খাবার থেকে পোশাক, গাড়ি থেকে বাড়ি, ভিন্ন রংয়ের রয়েছে ভিন্ন প্রভাব? জানুন - VD

Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মানুষের খাবার থেকে পোশাক, গাড়ি থেকে বাড়ি, ভিন্ন রংয়ের রয়েছে ভিন্ন প্রভাব? জানুন

ভিন্ন ভিন্ন রঙের কাপড় মানুষের ওপর নাকি ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। এক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা লাল কাপড় পড়েন, তারা কথাবার্তায় বেশ পাকা হন। সবুজ কাপড় পড়া মানুষের সঙ্গে সহজে কথা বলা যায়। নীল কাপড় মানুষের মনে ইতিবাচক ছাপ ফেলে। সাদা র…



ভিন্ন ভিন্ন রঙের কাপড় মানুষের ওপর নাকি ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। এক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা লাল কাপড় পড়েন, তারা কথাবার্তায় বেশ পাকা হন। সবুজ কাপড় পড়া মানুষের সঙ্গে সহজে কথা বলা যায়। নীল কাপড় মানুষের মনে ইতিবাচক ছাপ ফেলে। সাদা রঙের কাপড় হচ্ছে গুণী মানুষের পোশাক। কালো রঙের কাপড় পছন্দ করেন শারিরীকভাবে শক্তিশালী মানুষ। আচ্ছা, এসব কথার সঙ্গে কি আপনি একমত?

প্রসঙ্গত, কে কোন রঙ পছন্দ করেন, তা তার রুচিবোধের নির্ণায়ক হতে পারে। কিন্তু কালো কাপড় পড়লেই একজন শক্তিশালী হবেন, এমন না-ও হতে পারে। আমি আমার এক বন্ধুকে দেখেছি, কালো কাপড় পড়তে পছন্দ করতো। সে মোটেই শক্তিশালী ছিল না।

তবে, ভিন্ন ভিন্ন রঙের কাপড় ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে পড়ার সুবিধা আছে। গবেষণায় দেখা গেছে: গ্রীষ্মকালে গাঢ় লাল বা কালো রঙের কাপড় উচিত নয়। কারণ, এই রঙের কাপড় সূর্যালোক থেকে বেশিমাত্রায় তাপ শোষণ করে। ফলে শরীরে বেশি গরম অনুভূত হয়। সাদা রঙের কাপড়ে সূর্যালোক একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রতিফলিত করতে পারে। ফলে এ কাপড় তুলনামূলকভাবে কম তাপ শোষণ করে।


চলুন এবার ভিন্ন ভিন্ন রঙের কাপড়ের প্রভাব সম্পর্কে আরো কিছু ধারণার কথা বলি। শরত্কালে ক্লান্তি দূর করতে নাকি লাল, কমলা ও হলুদ রঙের কাপড় সাহায্য করে। এই রঙের কাপড় পড়লে আপনার মাথা হালকা মনে হবে। ট্রাই করে দেখতে পারেন। মন খারাপ হলে পড়ুন নীল রঙের কাপড়। নীল রঙকে বিশ্রামের প্রতীক গণ্য করা হয়। মন খারাপ হলে অবশ্য কালো বা কমলা রঙের কাপড় পড়বেন না। এ রঙের কাপড় আপনার মন আরো খারাপ করে দিতে পারে।


সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে এক চিকিৎসক বলেছেন: "ভিন্ন ভিন্ন রঙের খাবারের পুষ্টিগুণ ভিন্ন ভিন্ন। মানুষের উচিত প্রতিদিন পাঁচ রঙের খাবার খাওয়া।"

এখন আমি জানিয়ে দিচ্ছি পাঁচ রঙের খাবার সংশ্লিষ্ট আরো কিছু তথ্য। লাল রঙ খাবারের মধ্যে রয়েছে লাল শিম, লাল মিষ্টি আলু, টমেটো ইত্যাদি। হলুদ রঙের খাবারের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, সয়াবিন, কমলা ইত্যাদি। ব্লুবেরি, সামুদ্রিক শ্যাওলা ইত্যাদি হচ্ছে নীল রঙের খাবার। সাদা রঙের খাবারের মধ্যে রয়েছে চাল ও Zizania aquatic ইত্যাদি। কালো রঙের খাবারের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক সিসে, মাশরুম ইত্যাদি।













খাবার খাওয়ার পরিবেশটিও কিন্তু সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া চাই।

আপনি যেখানে বসে খাবার খাচ্ছেন, সেখানকার পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে টেবিলে খাচ্ছেন, সে টেবিলের রঙ, বাসন, চামচ ইত্যাদির রঙ আপনার রুচিকে প্রভাবিত করবে। যেমন, খাবার ঘরে হলুদ রঙের আধিক্য খাবারের প্রতি আপনার আগ্রহ বাড়িয়ে দিতে পারে। তা ছাড়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার ঘর ও টেবিল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, tableware –র রঙ ও খাবারের রঙ একই বা কাছাকাছি হলে, মানুষ সাধারণত প্রায় ২২ শতাংশ খাবার বেশি খেতে পারে। তবে যদি tableware –র রঙ ও tablecloth- র রঙ একই বা কাছাকাছি হয়, তাহলে মানুষের প্রায় ১০ শতাংশ খাবার কম খাওয়া হয়। যদি আপনি খাওয়ার আগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অথবা আপনি নিজের Weight কমিয়ে দিতে চান, তাহলে এভাবে চেষ্টা করতে পারেন।

এখন আমরা বেডরুমের রঙ নিয়ে আলোচনা করবো। সাধারণত মানুষ তার জীবনের অধিকাংশ সময় কাটায় ঘরে ও অফিসে। জেনে রাখুন, ঘর ও অফিসের রঙও আপনার শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে। একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বলছেন: "বাড়ির লিভিং রুমের রঙ একটু উজ্জ্বল হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সাদা রঙও বেশ ভাল। সিলিং-এর রঙ হওয়া উচিত মেঝের চেয়ে হালকা। শোবার ঘরের জন্য ভালো রঙ হচ্ছে হালকা নীল।" ব্রিটেনের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, যারা হালকা নীল রঙের শোবার ঘরে থাকেন, তাঁরা প্রত্যেকে রাতে গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ভালো করে ঘুমাতে পারেন। আজকাল বিশ্বব্যাপী তরুন দম্পতিদের মধ্যে বেগুনী রঙে শোবার ঘর সাজানো প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোবার ঘরের বেগুনী রঙ ব্যবহার করা উচিত নয়। এই রঙ শোবার ঘরে একধরনের বিষন্নতা নিয়ে আসে। যদি আপনি দেয়ালের রঙ পরিবর্তন করতে না-চান, তাহলে দেয়ালে ক্রিমি-হোয়াইট রঙের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।

এবার অফিসের রঙ। গবেষণাধর্মী কাজ হয় এমন অফিসে ডিজাইনের জন্য কিছুটা হালকা রঙ বাছাই করা উচিত। আর যে অফিসে প্রচার-প্রচারণামূলক কাজ হয় সে অফিসের রঙ উজ্জ্বল হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এখন আমরা গাড়ির রঙ নিয়ে কিছুটা আলোচনা করি। অস্ট্রেলিয়ার এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, কালো, সোনালী, সবুজ ও নীল রঙের গাড়ি তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্ঘটনাকবলিত হয়। অন্যদিকে সাদা, লাল ও হলুদ রঙসহ উজ্জ্বল রঙের গাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে কম দুর্ঘটনায় পড়ে। নিউজিল্যান্ডের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, যারা Silvery white রঙ গাড়ি চালান, তাঁরাও খুব কম দুর্ঘটনা ঘটান। যদি কোন একবার দুর্ঘটনা হয়, তাহলে ড্রাইভারের ক্ষতি খুবই ছোট। এ ছাড়া, গাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনও চালকের মনের ওপর প্রভাব ফেলে। ঋতুভেদেও গাড়ির রঙ ভিন্ন ভিন্ন হওয়া উচিত। যেমন: গ্রীষ্মকালে হালকা রঙের গাড়ি এবং শীতকালে গাঢ় রঙের গাড়ি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

No comments