শুক্রবার আসানসোলের একটি সভায় তিনি বলেন, ‘আমাদের এক কাপুরুষ তাঁর বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো সখা বলে মোদীজির দলে গেলেন। আসলে সিবিআই বা ইডির ভয় আছে এমন কাপুরুষরা সোজা পৌঁছে যাচ্ছেন গেরুয়া ওয়াশিং মেশিনে। আর সেখানে তাঁরা নিজেদের ধুয়ে নিয়ে স্বচ্ছ হচ্ছেন।’তাই উনি নাম না করে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শোভন চট্টোপাধ্যায়কে কাপুরুষ বলে আক্রমণ করলেন মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির থেকে সম্বর্ধনা নেওয়ার সময় ছেড়ে আসা তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বাম জমানার চেয়েও এখন অনেক বেশি সন্ত্রাস। জীবন বিপন্ন করে রাজনীতি করতে হচ্ছে বিরোধীদের।
বাংলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করার সময় এসেছে।’’ এরকম বাক্যবানে বিদ্ধ হয়েও শোভনের প্রতি কোনও কটূ মন্তব্য করেনি তৃণমূল। বরং তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “শোভন সুস্থ থাকুক এটাই চাই। চেষ্টা করেছি বিধায়ক হিসেবে ওঁকে ধরে রাখার। উনি ভালো বুঝেছেন তাই চলে গিয়েছেন।” তবে এদিন ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে৷ এতদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা শোভনকে নিয়ে সেভাবে মুখ না খুললেও এবার মুখ খোলা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ এদিন নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করতে ফিরহাদ বলেন, ‘রাজনীতি আসলে একটা ফুটবল খেলা।
মাঝে মধ্যে বল নিয়ে পিছিয়ে গেলেও গোলপোস্টকে লক্ষ করে আবার এগোতে হবে। অনেকে মনে করছেন এ বারের লোকসভা ভোটে এখান থেকে বাবুল সুপ্রিয় দ্বিতীয়বার জিতেছেন। আমি তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রথমবার তিনি জেতার পর আসানসোল পুরসভা এবং এখানকার বেশিরভাগ বিধানসভাগুলিতে তৃণমূল জিতেছিল। ইডি বা সিআইডির ভয় দেখালেও বাংলার মানুষ বিজেপির ক্রীতদাস হয়ে থাকবে না।’
No comments