দীর্ঘজীবন কে না চায়? অধিকাংশ মানুষই সুস্থ ও সুন্দরভাবে অনেকদিন বেঁচে থাকতে চায়। মানুষ মাত্রই মরণশীল। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। তারপরও এই সুন্দর পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ উপভোগ করতে দীর্ঘজীবন কামনা করেন প্রায় সবাই। অনেকে তো বেঁচেও থাকছেন অনেক বছর, তাই না? বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। মানুষের দীর্ঘজীবনের জন্য জিনগত কারণ ১৫ শতাংশ, সামাজিক কারণ ১০ শতাংশ, উন্নত চিকিত্সা ৮ শতাংশ, আবহাওয়া ৭ শতাংশ এবং জীবনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ৬০ শতাংশ দায়ী। বোঝাই যাচ্ছে, দীর্ঘজীবন লাভের জন্য জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা সবচেয়ে জরুরি।
আধুনিক মানুষ আপসেট হয় বেশি চিন্তা করার কারণে, রেগে যায় অন্যের সাথে তুলনা করার কারণে, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় নতুন কিছু করার তাগিদ থেকে, এবং অসুস্থ হয় খাওয়ার কারণে। একটু বুঝিয়ে বলি। কোনো বিষয় নিয়ে যখন আপনি বেশি চিন্তা করবেন, তখন আপনি আপসেট হবেন এমন আশঙ্কা প্রবল। আবার অন্যের সঙ্গে তুলনা করলেও আপনার নিজের ওপর, সমাজের ওপর রাগ হবে। দু'টি ক্ষেত্রেই ক্ষতি ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই আপনার জন্য।
হৃদয় ও ফুসফুসকে মুক্ত রাখা মানে সবসময় হাসিখুশি থাকা ও প্রাণ ভরে তাজা বাতাসে শ্বাস নেওয়া। আরো সহজ করে বললে, মন খোলা রাখুন, হাসিখুশি থাকুন; কোনো ব্যাপারেই উত্তেজিত হবেন না, রাগ করবেন না। সবসময় মন-মরা হয়ে থাকা বা কথায় কথায় রেগে যাওয়া যাদের স্বভাব, তাদের দীর্ঘায়ু লাভের সম্ভাবনা কম। অতএব অভ্যাস বদলান, যদি বেশি দিন বাঁচতে চান, সুস্থ ও সুন্দরভাবে।
জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম মূল মন্ত্র। দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হলে, প্রায় সময়ই মানুষকে হতাশায় পেয়ে বসে, তখন ভালোভাবে বেশিদিন বাঁচার আগ্রহও কমে যায়। অথচ দীর্ঘায়ু লাভের জন্য আগ্রহ থাকা চাই।
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্মীরা ৯০ হাজার নারীর ওপর ৮ বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছিলেন। গবেষণায় দেখা গেল, যারা হাসিখুশি থাকেন তারা, যারা মন-মরা হয়ে থাকেন তাদের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি আয়ু পেয়ে থাকেন। এদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার হারও ৯ শতাংশ কম। এ ছাড়া, নরওয়েতে ২০১৫ জন রোগীর ওপর একটি জরিপ হয়েছিল। জরিপের ফল বলছে: যাদের রসবোধ প্রবল, তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা রসকষহীন ব্যক্তির তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।
এক চিকিৎসকের মতে, 'যে কোন রোগে মন ভালো রাখা, একদন দক্ষ চিকিত্সকের চিকিত্সার চেয়েও ভালো ভাল।' তিনি বলেন, যাদের মন ভালো থাকে, তাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
হ্যাঁ, রেগে গেলে কিন্তু আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার শরীরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। হঠাৎ রেগে গেলে আপনার পাল্স্ , হৃত্পিন্ডের স্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাবে। আপনি যখন দুঃখ পান, তখন আপনার পৌষ্টিক গ্রন্থি থেকে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম নিঃসরণ কমে যাবে। এতে আপনার খাবারে অরূচিও হতে পারে। এমনকি মিথ্যা কথা বললেও তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শরীরে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আপনি যদি কোনো গুরুতর মিথ্যা বলেন, তবে আপনার রক্তচাপ হঠাত করে বেড়ে যাবে।
মনে যখন কষ্ট জমাট বাধে তখন শরীরে এপিনেফ্রিনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ পদার্থ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের মূল কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, আপনি যখন আনন্দিত হবেন, তখন আপনার শরীরে Endorphin-এর নিঃসরণ বেড়ে যাবে, যা আপনার শরীরের জন্যও ভালো।
এক গবেষক মনে করেন, বকবক করার মাধ্যমে মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং ভাষাদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। বকবক করলে মস্তিষ্ক কোষগুলোও সচল থাকে। যারা মাঝে মাঝে বকবক করেন, তাদের মুখের পেশী ও গলা ভালো থাকে। এতে কানের ভেতর ও বাইরের চাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ছাড়া, Presbyopia, Cataract ও Vision loss প্রতিরোধেও বেশি কথা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।


No comments