রান্না এবং খাবারের ক্ষেত্রে ভিনেগারের এই ১০টি ব্যবহার জানতে পড়ুন! - VD

Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

রান্না এবং খাবারের ক্ষেত্রে ভিনেগারের এই ১০টি ব্যবহার জানতে পড়ুন!

আমাদের নিত্যদিনের রান্নায় ভিনেগার একটি অপরিহার্য উপাদান। বিভিন্ন দেশের মানুষও রান্নার কাজে ভিনেগার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আপনারা জানেন কি ভিনেগারের উপকারিতা অনেক। হ্যা, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে রান্নায় ভিনেগার ব্যবহারে…









আমাদের নিত্যদিনের রান্নায় ভিনেগার একটি অপরিহার্য উপাদান। বিভিন্ন দেশের মানুষও রান্নার কাজে ভিনেগার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আপনারা জানেন কি ভিনেগারের উপকারিতা অনেক। হ্যা, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে রান্নায় ভিনেগার ব্যবহারের ১০টি সুবিধার কথা বলা হয়েছে।

দশটি সুবিধা নিয়ে আলোচনা করার আগে ভিনেগার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ভিনেগারকে বাংলায় আমরা বলি সিরকা। আর এটি একটি তরল পদার্থ যা অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) ও জলের মিশ্রণ। ভিনেগারে সাধারণত ৫ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। ভিনেগার তৈরিতে আপেল, আঁখ, নারিকেল, খেজুর, নাশপাতি, টমেটো, চাল, গম, মধু, বিয়ার ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডসে বিয়ার ভিনেগার প্রচলিত। আঁখ থেকে তৈরি ভিনেগার ফিলিপিন্সে জনপ্রিয়। তবে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরনের ভিনেগার প্রস্তুত করা হয়। নারকেলের জল থেকে তৈরি ভিনেগার মূলত ব্যবহৃত হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিনেগার প্রস্তুত করা হয় ঐতিহ্যবাহী খেজুর থেকে। অধিকাংশ ফলের ভিনেগার তৈরি হয় ইউরোপে। তবে, চীন ও কোরিয়াতেও ফল থেকে ভিনেগার প্রস্তুত করা হয়। অবশ্য চীনের কালো ভিনেগার বিখ্যাত। ইতালি, ফ্রান্স, রুমানিয়া ও স্পেনে পাওয়া যায় মধু থেকে তৈরি ভিনেগার। চাল থেকে তৈরি ভিনেগার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।

ভিনেগার আজকাল শুধু রান্নার কাজে ব্যবহৃত হলেও, গৃহস্থালী পরিস্কার, পুড়ে যাওয়া, চিকিৎসায় পথ্য ইত্যাদি বহুবিধ ক্ষেত্রে এর স্বার্থক প্রয়োগ ঘটেছে। প্রাচীনকালে কোনো কোনো চিকিৎসক ওষুধ হিসেবে ভিনেগার খেতে দিতেন বলে জানা যায়। 

সুবিধা ১: খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি পায়

চর্বিযুক্ত খাবার রান্নার সময় কিছু ভিনেগার ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া, ভিনেগারের সুগন্ধ খাবারটিকে আরো মজাদার করে তোলে। অনেকে চর্বির গন্ধ পছন্দ করেন না। তারা ভিনেগার দিয়ে রান্না করা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে দেখুন, ভালো লাগবে।

সুবিধা ২: খাবারের অপছন্দনীয় গন্ধ দূর হয়

আপনি কি কখনো মাছ বা ছাগলের মাংস রান্না করেছেন? হ্যাঁ, মাছ ও ছাগলের মাংস রান্না সময় এক ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। অনেকেই এই গন্ধ পছন্দ করেন না। তো, এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ভিনেগার। রান্নার সময় একটু ভিনেগার মিশিয়ে দিন, গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

সুবিধা ৩: ভিনেগার খাবারকে জীবাণুমুক্ত করে ও খাবারের পচন রোধ করে

যেসব খাবার আগুণে সেদ্ধ করে খাওয়া হয় না, সেসব খাবার ভিনেগার মিশিয়ে খেলে সেগুলো জীবাণুমুক্ত হয়। যেমন: শসা, গাজর ইত্যাদি। আচার তৈরির সময় ভিনেগার ব্যবহার করলে, সেই আচার অনেকদিন ভালো থাকে; তাতে পচন ধরে না।
















সুবিধা ৪: ভিনেগার খাবারের লবণাক্ততা বাড়ায়

প্রিয় বন্ধু, আপনি জানেন কি, লবণ বেশি খাওয়া ভালো নয়? আবার খাবারে লবণাক্ততা না-থাকলে, মজাও লাগে না। কোনো সমস্যা নেই। খাবারে ভিনেগার ব্যবহার করুন। তখন লবণ কম ব্যবহার করেও আপনি খাবারে লবণাক্ততার স্বাদ ঠিকই পাবেন।

সুবিধা ৫: ভিনেগার খাবারে ব্যবহৃত মশলার তীব্রতা কমিয়ে দেয়

রান্নার পর যদি দেখা যায় ঝাল বেশি হয়েছে, তখন খানিকটা ভিনেগার মিশিয়ে দিন। দেখবেন ঝালের তীব্রতা কমে যাবে। রেস্তোরাঁ খেতে বসেছেন; বুঝলেন খাবারটি অতিরিক্ত ঝাল; ওয়েটারকে ডাকুন, বলুন একটু ভিনেগার দিতে। মিটিয়ে ফেলুন সমস্যা।

সুবিধা ৬: খাবারকে ক্ষারের স্বাদমুক্ত করতে সাহায্য করে ভিনেগার

আগেই বলেছি, ভিনেগারে প্রায় ৫ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। আর অ্যাসিড হচ্ছে ক্ষার প্রশমক। সুতরাং খাবারের ক্ষারের স্বাদ প্রশমিত করতে ভিনেগার ব্যবহার করুন। 

সুবিধা ৭: ভিনেগার খাবারের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

সুন্দর কে না পছন্দ করে! যাকিছু দেখতে সুন্দর, মানুষ তা পছন্দ করে। হ্যা, খাবারের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্য। যে খাবার দেখতে সুন্দর সেটি খেতেও ভালো লাগে। অন্তত খেয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। ভিনেগার খাবারকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, এর উজ্জ্বলতা বাড়ায়। কারণ, ভিনেগারের মধ্যে জৈব অ্যাসিড রয়েছে। এই উপাদান খাবারে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদানের রঙ নষ্ট হতে দেয় না।

সুবিধা ৮: খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ হতে ভিনেগার সাহায্য করে

আলু রান্নার আগে আপনি প্রথমে ভিনেগারযুক্ত জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর রান্নার সময় পাত্রে আলু দেয়ার পর, আপনি পর্যাপ্ত ভিনেগার দিন। তারপর দেখবেন রান্না করা আলু মুখে দিলে কেমন মিশে যাবে! খেয়ে খুব আরাম পাবেন।

সুবিধা ৯: ভিনেগার খাবার দ্রুত রান্না হতে সাহায্য করে

ভিনেগারের মধ্যে রয়েছে জৈব অ্যাসিড। এটি গরু বা ছাগলের মাংস রান্নার সময় ব্যবহার করলে, রান্না দ্রুত শেষ হবে। ভিনেগার ছাড়া রান্না করলে এক্ষেত্রে যে সময় লাগবে, ভিনেগার ব্যবহার করলে সে সময় অর্ধেকে নেমে আসবে।

সুবিধা ১০: মাছ বা মাংসের হাড় নরম করে ভিনেগার

রান্নার সময় মাছ বা মাংসের হাড় নরম হতে সাহার্য করে ভিনেগার। তাতে আমরা হাড়ের ক্যালসিয়াম তুলনামূলকভাবে বেশি পেতে পারি। মাছসুপ ও হাড়ের সুপ তৈরীর সময় ভিনেগার তাই অপরিহার্য। ভিনেগার ব্যবহার করলে স্যুপের পুষ্টিগুণ ও স্বাদও বৃদ্ধি পায়।

No comments