এখন চলছে লকডাউন, তবে লকডাউন মিটলেই মানুষ বেরিয়ে পড়বে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে। ভ্রমণ প্রত্যেকেরই পছন্দের, এবং একটি ভাল অভ্যাস। কিন্তু এসময় আকস্মিকভাবে অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে। সেজন্য আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে গ্রীষ্মকালে সুষ্ঠুভাবে ভ্রমণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পাঁচটি পরামর্শ প্রকাশিত হয়েছে।
পরামর্শ ১: সানস্ক্রিন হাতে রাখুন
প্রিয় শ্রোতা, গ্রীষ্মকালে বাইরে প্রচুর রোদ থাকে। আর এসময় আবহাওয়া থাকে অনেক গরম। সাবধানতা অবলম্বন না করলে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি আমাদের ত্বকের ভীষণ ক্ষতি করতে পারে। সুতরাং, কোন সময়টা ভ্রমণের জন্য ভাল এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় তার ওপর আমাদের এক সুষ্ঠু সময়-তালিকা নির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে একটি কথা বলতে চাই, গ্রীষ্মকালে দুপুরে ভ্রমণ করা ঠিক নয়। সেক্ষেত্র যদি কোন উপায় না থাকে, তাহলে আপনি শরীরে সানস্ক্রিন মাখুন। সেই সঙ্গে ঢিলেঢালা জামা পড়ুন। এটি ত্বকের জন্য খুবই সহায়ক। অতিরিক্ত রোদে ত্বক পুড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে বেশি, আর এ থেকে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।
আরেকটি বিপদের কথা বলতে চাই, ত্বকের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাবধান না হলে ত্বকে ক্যান্সারও হতে পারে। অতএব, ত্বকের যত্ন নিতে চেষ্টা করুন। ত্বক সুস্থ হলে, আমরা সুস্থ ও সুখী জীবন কাটাতে পারবো।
পরামর্শ ২: গ্রীষ্মকালে ভ্রমণে তাপ প্রতিরোধ ও তাপ হ্রাস ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে গাঢ় লাল বা কালো রঙের কাপড় পড়া উচিত নয়। কারণ, এই রঙের কাপড় সূর্যালোক থেকে বেশিমাত্রায় তাপ শোষণ করে। ফলে শরীরে বেশি গরম অনুভূত হয়। তাহলে গ্রীষ্মকালে আমরা কি রঙের কাপড় পড়বো? বা এই সময়ে আমাদের কি রঙের কাপড় পড়া উচিত? সাদা রঙের কাপড় পড়া ভাল। সাদা রঙের কাপড়ে সূর্যালোক একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রতিফলিত হয়। ফলে এ কাপড় তুলনামূলকভাবে কম তাপ শোষণ করে।
গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীর থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঘাম ঝরতে দেখা যায়, ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় লবণের পরিমাণও হ্রাস পায়। সুতরাং, গ্রীষ্মকালে বেশি বেশি জল পান করা শরীরের সুস্থতার জন্য খুবই কল্যাণকর।
পরামর্শ ৩: গ্রীষ্মকালে ভ্রমণে এলার্জির সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত
গ্রীষ্মকালে প্রচুর রোদ থাকার কারণে অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল ফোটে। সেজন্য রাস্তার আশে পাশে প্রচুর পুষ্পরেণু দেখা যায়। হ্যাঁ, অনেকেই আবার এ থেকে এলার্জি রোগে আক্রান্ত হন। সুতরাং, যাদের এ সমস্যা আছে তাদের উচিত বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক, সানগ্লাস ও ঢিলেঢালা জামা পড়া। বেশি দরকার হলে, বাইরে যাবার আগেই এলার্জি প্রতিরোধক ওষুধ খেয়ে নেওয়া ভাল। আর আপনার ভ্রমণের জায়গাটি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা ভাল।
পরামর্শ ৪: গ্রীষ্মকালে ভ্রমণে পরিচ্ছন্ন খাবার একান্ত জরুরী
হ্যাঁ, প্রিয় শ্রোতা,আমরা জানি, আমরা যে সমস্ত খাবার খাই তা থেকেই অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং, আমাদের সুস্থতার জন্য অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া উচিত ।
আরেকটি কথা বলতে চাই , গাড়ি বা বিমানে খাওয়ার পরিমাণ একটু নিয়ন্ত্রণে রাখা ভাল। কারণ, খাওয়া শেষে এত সীমিত জায়গায় আপনি ব্যায়াম করতে পারবেন না। ফলে খাবার হজমে তুলনামূলকভাবে একটু অসুবিধায় পড়তে হবে।
সুতরাং, গাড়ি বা বিমানে কম খাবার খাবেন।
পরামর্শ ৫: গ্রীষ্মকালে ভ্রমণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন কাপড় পরিবর্তন করুন
হ্যাঁ,গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া গরম থাকায় আমাদের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে। তাই এসময় কোথাও ভ্রমণে গেলে, হাতে নিশ্চয়ই বেশি বেশি কাপড় নেয়া উচিত। প্রতিদিন পরিষ্কার কাপড় পড়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বলতে চাই, গরমে ভ্রমণে শিশুদের জন্য আরো বেশি কাপড় নেয়া উচিত। কারণ শিশুর ত্বক আরও বেশি সংবেদনশীল। শিশুর জামাকাপড় পরিস্কারের সময় তা বাবা মায়ের কাপড়ের সাথে মিলিয়ে করবেন না।


No comments