৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে তিন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার প্রবণতা দেখা যায়। সমীক্ষা তাই বলে। এই তিন ধরনের ক্যান্সার হচ্ছে: স্তন ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সার ও ফুসফুসের ক্যান্সার। আমরা আজকের অনু্ষ্ঠানে এ তিন ধরনের ক্যান্সার নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করবো এবং এ থেকে বেঁচে থাকতে বিশেষজ্ঞরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন তা বলব।
তিন ধরনের ক্যান্সার নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই আসি স্তন ক্যান্সারের কথায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এক সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, দেশটির ৮ জন নারীর মধ্যে গড়ে একজন স্তন ক্যান্সারের রোগী। আসলে বিশ্বব্যাপীই স্তন ক্যান্সার একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নতির ফলে বিংশ শতাব্দীর ৯০-এর দশক থেকে এই ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মধ্যবয়সীদের পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত এ রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে গ্যাস্ট্রোস্কপি করা হয়। যারা সার্বক্ষণিকভাবে পেটে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের উচিত অবিলম্বে চিকিৎকের শরণাপন্ন হওয়া।
ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের হার বেশি। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হারও বেশি। বিগত ৫০ বছরে বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। এ ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা বেশি। ধূমপানের সাথে ফুসফুসের ক্যান্সারে সরাসরি সম্পর্ক আছে। যারা ধূমপান করেন, তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যারা ধূমপান করেন না, তাদের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। প্রত্যক্ষ ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানেও ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে।
মধ্যবয়সীরা এ তিন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। আর আগেই বলেছি, ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে, তা থেকে রেহাই পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই প্রতিরোধই এ থেকে বাঁচার উপায়। তো, ক্যান্সার থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শ মেনে চললে আশা করা যায় যে, ওই তিন ধরনের ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা যাবে।
পরামর্শ ১: নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করুন
চিকিৎসকরা বলছেন, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করলে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বাড়ে। তাই নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করুন, সুস্থ থাকুন।
পরামর্শ ২: নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
নিয়মিত শরীরচর্চা সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত। আধুনিক জীবন ব্যস্ত জীবন। কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও শরীরচর্চার জন্য খানিকটা সময় বের করে নিন। নিয়মিত শরীরচর্চা আপনাকে অন্য অনেক রোগের পাশাপাশি প্রায় সবধরনের ক্যান্সার থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
পরামর্শ ৩: বিষন্নতা থেকে দূরে থাকুন
কথাটা বলা যতোটা সহজ, করা ততোটা সহজ নয়। এটা আমরা জানি। জীবন অনেক জটিল। প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যা আমাদের মন খারাপ করে দেয়, আমাদের করে তোলে বিষন্ন। কিন্তু এই বিষন্নতা নিজেই একটা রোগ। তাই তাকে মনে বাসা বাঁধতে দেওয়া যাবে না। তবে খানিকটা সময়ের জন্য বিষন্ন হওয়ার কথা আমরা বলছি না, বলছি দীর্ঘস্থায়ী বিষন্নতার কথা। যারা দীর্ঘমেয়াদি বিষন্নতায় ভুগছেন, তাদের হজমের সমস্যাসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিষন্নতা মানুষের রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। অতএব বিষন্নতা থেকে দূরে থাকুন। শত দুঃখের মাঝেও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।
পরামর্শ ৪: ধূমপান থেকে বিরত থাকুন
ধূমপানের কোনো উপকারিতা নেই। চিকিৎসকরা বলেন, পায়ের নখ থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত---এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যা ধূমাপানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা ছাড়া, আগেই বলেছি ধূমপান ফুসফুসরের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। অতএব ধূমপান থেকে দূরে থাকুন, ফুসফুসের ক্যান্সারকে 'না' বলুন।
পরামর্শ ৫: নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান
আপনি কি বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান? এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। এর মাধ্যমে আমরা শরীরের অবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে পারি। কিন্তু, অনেকেই অলসতা করে হাসপাতালে যান না। এটা ঠিক নয়। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা দরকার। ECG, খাওয়ার আগে ও খাওয়ার পরে ব্লাড-সুগার মাপা এবং ইউরিন টেস্ট ইত্যাদি পরীক্ষাগুলো আরো ঘন ঘন করা দরকার।


No comments