ক্যান্সার দুরারোগ্য ব্যাধি। যদিও, ক্যান্সারের নানা ধরনের চিকিৎসা আজকাল হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্যান্সারে সেসব চিকিৎসা বেশ কার্যকর বলেও প্রমাণিত, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু। তাই এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা যদি স্রেফ কয়েক ধরনের খাবার না-খেয়ে কমিয়ে আনা যায়, তবে মন্দ কী! হ্যা, আমরা আজকের অনুষ্ঠানে তেমন ৭ ধরনের খাবার নিয়ে আলোচনা করবো। এসব খাবার থেকে দূরে থাকলে, আপনার ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা কমে যাবে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে এমন ৭ ধরণের খাবারের কথা বলা হয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে এসব খাদ্য থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য। আমরা এখানে এই ৭ ধরনের খাবার নিয়ে আলোচনা করবো।
ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আগে থেকে বোঝা যায় -
• খুব ক্লান্ত বোধ করা
• ক্ষুধা কমে যাওয়া
• শরীরের যে কোন জায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া
• দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা
• মলত্যাগে পরিবর্তন আসা (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া)
• জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া
• অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা
• অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া
• ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া ইত্যাদি।
লক্ষণ হিসেবে যা কিছু বলা হলো, সেগুলোর এক বা একাধিক দেখা দিলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এসব লক্ষণ অন্য কোনো কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই ভয় না-পেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
আমরা আজ যে ৭ ধরনের খাবার সম্পর্কে আলোচনা করবো তার প্রথমটি হচ্ছে:
১. অত্যধিক গরম খাবার
বেশি গরম খাবার খেলে আমাদের পরিপাকতন্ত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ পড়ে। অত্যধিক গরম খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বাড়ে। অত্যধিক গরম খাবার খাদ্যনালীর ক্যান্সারের অন্যতম মূল কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আসুন, আমরা খুব বেশি গরম খাবার খাওয়া ত্যাগ করি। তার মানে এই নয় যে, খাবার ঠাণ্ডা করে খেতে হবে। সহনীয় ও কম গরম খাবার খান।
২. ভাজা-পোড়া খাবার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি বেশি ভাজা-পোড়া খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার, কলোরেক্টাল ক্যান্সার ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, ভাজা-পোড়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য এমনিতেও ভালো নয়।
৩: মদ বা ওয়াইন
অতিরিক্ত মদ্যপান আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ১৯৬৪ সালেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছিল যে, অতিরিক্ত মদ্যপানের সাথে মুখগহ্বরের ক্যান্সার ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের সম্পর্ক সরাসরি। সুতরাং, অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
৪: কফি
কফির ভেতরে যে উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে থাকে সেটির নাম ক্যাফেইন। আর ক্যাফেইনকে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার ও মূত্রাশয় ক্যান্সরের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এক জরিপ থেকে জানা গেছে, যারা মাঝে মাঝে কফি পান করেন, তাদের এ দুটি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা যারা কফি পান করেন না তাদের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক অতিরিক্ত কফি খাওয়ার কারণে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কফি যতো কম খাওয়া যায়, ততই ভালো।
৫: লবণাক্ত খাবার
আপনি এ ধরণের খাবার খেতে পছন্দ করেন কি? যেমন, নোনতা মাছ, সবজির আচার, নোনতা চিপস ইত্যাদি? গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এখানে জাপানের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। জাপানি জেলেরা নোনতা মাছ বেশি খায়। তাই তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সার ও খাদ্যনালীর ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।
৬: পচা খাবার
পচা খাবার খেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আমরা অবশ্য সাধারণত পচা খাবার খাই না। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, অনেক পশু-পাখি পচা খাবার খায়। আমাদের ভালো খাবার যদি এসব পশু-পাখির সংস্পর্শে আসে, তবে আমার তা থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।
৭: সবজি ও মাংসের আচার
নাইট্রাইটকে ক্যান্সার উত্পাদক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ সবজি ও মাংসের আচারে প্রচুর নাইট্রাইট থাকে। আরেকটি কথা বলতে চাই যে, বাসি খাবারের মধ্যেও নাইট্রোসো নামের ক্ষতিকর পদার্থ সৃষ্টি হতে পারে। তাই বাসি খাবার থেকেও দূরে থাকা ভালো।

No comments