প্রেম এমন এক মেডিসিন যেটা এক্সপায়ারি ডেটের পরও কাজ করে। যিনি সদ্য প্রেমে পড়েছেন, যার প্রেমিক/প্রেমিকার চিরাচরিত প্রশ্নের কাঙ্ক্ষিত উত্তর টি পেয়েছেন আর যিনি পাননি- দু’রকমের মানুষই প্রেমের ফ্রেমে বন্দি৷
প্রেম শব্দটিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন যিনি আর প্রেম শব্দটা শুনলেই যিনি রাগে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে কামড়াতে আসেন দুজনেই কিন্তু সমান কৌতুহলী৷ যদি সেই প্রেম হয় আপনার, আমার প্রিয় স্পোর্টস পার্সনের। তাহলে তো কথাই নেই। ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’তে সেরকম একজন ভীষণ প্রিয় খেলোয়াড়ের ভালোবাসার গল্প, যে প্রেমে মেডিসিনেও কাজ হয়নি।
হালে বিরুষ্কার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। ভারতের ক্রিকেট ও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির এই জুটির প্রেম ও বিয়ে সবার কৌতূহলের বিষয় ছিল। কিন্তু এই লেখাটা বিরাট–অানুশকাকে নিয়ে নয় বরং কলকাতার এক বিখ্যাত স্পোর্টস আইকনের ‘লাভ স্টোরি’৷
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, আশির দশকের মাঝামাঝি-১৯৮৫ সাল। ২/৬ বীরেন রায় রোড কলকাতা-৮ এর পাশাপাশি দুটি বাড়িতে বড় হচ্ছিল দুটি ছেলেমেয়ে। ছেলেটির চোখ ফুটবল খেলতে যাওয়ার সময় কিংবা স্কুল থেকে ফেরার সময় ঠিক খুঁজে নিত রেলিং-এ দাঁড়ানো পাশের বাড়ির মেয়েটিকে। মেয়েটিরও আস্তে আস্তে ভালো লাগতে শুরু করেছিল ছেলেটির নিষ্পাপ চোখ দুটোকে। কিন্তু দুই তরফের পরিবারের মধ্যে বহু পুরনো পারিবারিক বিবাদ। ঠিক যেন কলকাতার বুকে এক টুকরো শেক্সপিয়রের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’৷
যাই হোক ছেলেটি তখনও স্পোর্টস আইকন হয়ে উঠেনি। তবে ময়দানে ফুটবল পায়ে নিয়ে দৌড়াতে শিখে গেছে। ঠিক এ সময় ভালোলাগার ফুটবল ছেড়ে দাদার পরামর্শে ক্রিকেট ব্যাট হাতে তুলে নেয়া এবং কিছুটা সময় পেরিয়ে ব্রিসবেনে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি চাপানো। বাকিটা ইতিহাস।
সৌরভ চন্ডীদাস গাঙ্গুলি, যিনি ভারত এবং বিশ্ব ক্রিকেট প্রায় একটা দশক ধরে শাসন করেছেন রাজকীয় ঢঙে। লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জার্সি উড়িয়ে দাদাগিরি করে এসেছেন। স্টেপ আউটে বেরিয়ে এসে একের পর এক ‘বাপি বাড়ি যা’ ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
তখন বেহালার সেই পাশের বাড়ির মেয়েটি কোথায়? অবশ্যই তিনি রয়েছেন। ততদিনে সৌরভের শৈশবের প্রেম স্বীকৃতি লাভ করেছে প্রেমিকার। কিন্তু এবার বেঁকে বসেছেন পরিবার। পুরনো বিবাদ। দু’তরফেই ‘না’ শব্দে আটকে যায়। কিন্তু এবারও নিজের প্রেমের জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়ালেন মহারাজ। বাড়িতে না জানিয়েই রেজিস্ট্রি করলেন ডোনা রায়কে। ব্যাপারটি গোপন রাখলেন বাড়িতে অনেকদিন।
বিয়েটা জানাজানি হওয়ার অনেক ‘না’ এর সামনে দাঁড়াতে হয় এই জুটিকে৷ কিন্তু কোনো পরোয়া করেনি। দুজন একসাথে পথচলা শুরু করলেন। এরপর আস্তে আস্তে তাদের ভালোবাসার কাছে হার মানে দুই পরিবার। ২১ বছর বিবাহিত সৌরভ-ডোনা এখন সুখী দম্পতি। তাদের সংসারে ১৭ বছরের মেয়ে সানা রয়েছে।
from Daily Bangla http://bit.ly/2QfDeE4

No comments