দিনে দুইবার ব্রাশ করতে হবে, সকালে ও রাতে। মিষ্টি খাবার খাওয়া যাবে না অতিরিক্ত। কিন্তু এই নিয়ম মেনে চলার পরেও কেন দাঁতে সমস্যা হয়?
দাঁত সুস্থ রাখার মূলমন্ত্র আমাদের সবারই জানা আছে। দিনে দুইবার ব্রাশ করতে হবে, সকালে ও রাতে। মিষ্টি খাবার খাওয়া যাবে না অতিরিক্ত। কিন্তু এই নিয়ম মেনে চলার পরেও কেন দাঁতে সমস্যা হয়? সত্যিটা হলো, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং ব্রাশ করার সময়েও কিছু নিয়ম মানতে হবে। জেনে নিন, এই ৪টি ভুল করছেন না তো আপনিও?
দাঁত থেকে জীবাণু দূর করতে দিনে ২ বার ব্রাশ করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। খাবার খাওয়ার পর পরই আমাদের মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া তাতে থাকা চিনি হজম করে ও এসিড এবং উপজাত তৈরি করে। এসব মিলে সাধারণত প্লাক তৈরি হয়। তবে খাবার খাওয়ার পর ১২ ঘণ্টা যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্লাক তেমন ক্ষতি করে না। প্লাক পরিষ্কার না করলে এর এসিডগুলো দাঁতে অতি ক্ষুদ্র ফুটো করে ফেলে এবং একটা সময়ে এই ফুটো দৃশ্যমান ক্যাভিটিতে রূপ নেয়।
প্লাক দূর করার জন্য রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একবার এবং সকালে একবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। এ সময়ে দুই মিনিট সময় নিন ব্রাশ করার জন্য। সাধারণ ব্রাশের তুলনায় ইলেকট্রিক টুথব্রাশ বেশি কার্যকরী। অন্যদিকে চিকন মাথাওয়ালা টুথব্রাশ মুখের পেছন দিকেও পরিষ্কার করতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রাখুন ব্রাশ করার সময়ে।
দাঁত ব্রাশ করার বেশিরভাগ উপকারিতাটা আসে টুথব্রাশ থেকে। অনেকে ফ্লোরাইডবিহীন, সুগন্ধি বা হার্বাল টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, যা আসলে দাঁতের তেমন উপকারে আসে না। ফ্লোরাইড দাঁত ক্ষয় রোধ করে এবং দাঁতের হারানো খনিজ পদার্থ পূরণ করে। সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়ার জন্য ১৩৫০-১৫০০ পিপিএম পরিমাণ ফ্লোরাইড আছে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
দিনের তুলনায় রাতে মুখের ভেতরে স্যালাইভা বা লালা কম উৎপন্ন হয়। সারাদিন মুখে লালা থাকার কারণে ব্যাকটেরিয়া কম উৎপাত করে। রাত্রে মুখ শুকিয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া ক্ষতি বেশি করে। এসব কারণে রাত্রে দাঁত ব্রাশ করার পর বেশি কুলি করবেন না। অল্প কুলি করুন, যাতে দাঁতে ফ্লোরাইড রয়ে যায় এবং সারারাত দাঁতকে সুরক্ষা দিতে পারে। ব্রাশ করার পর কিছু খাওয়া ও পানি ছাড়া অন্য কিছু পান করা থেকে বিরত থাকুন। এতে দাঁত ক্ষয় কমে আসবে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।
অনেকেই জানেন চিনি খাওয়া দাঁতের জন্য খারাপ। কিন্তু স্বাস্থ্যকর বলে পরিচিত কিছু খাবার যেমন ফ্রুট জুস ও মধুতে থাকা চিনিও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। ব্যাকটেরিয়া এসব চিনিকে সহজে হজম করে ফেলে এবং এসিড তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, দৈনিক খাবারের ৫ শতাংশের বেশি চিনি থাকা উচিত নয়। তারমানে কতটুকু? ১১ বছর বয়সের বেশি শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তা হলো আট চা চামচ বা ৩০ গ্রাম।
জেনে রাখুন, ৩৩০ মিলি কোকের ক্যানে চিনি থাকে ৩৫ গ্রাম!
from Daily Bangla http://bit.ly/2GYXYwQ

No comments