আজ শেষ হল লোকসভা ২০১৯ এর সপ্তমদফা ভোট।আবহাওয়া দপ্তরের থার্মোমিটারে পারদ যেমন চড়ছে তেমনি ভোটের উত্তেজনার পারদও চড়চড় করে উঠছে।সপ্তম দফার ভোটে সেই উত্তেজনার পারদ বয়েলিং পয়েন্টে পৌঁছাল।সকাল থেকে অশান্তির খবর সংবাদমাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ।জনতা সংঘর্ষের রোষ ও সূর্যের রোষ থেকে বাঁচতে সকাল সকাল ভোট দেওয়ার পক্ষে।যেমন উত্তর২৪ পরগনার বারাসতের অশ্বিনী পল্লী হাই স্কুলে ৫টি বুথে ভোটার প্রায় পাঁচ হাজার।ভোট শুরুর ২ঘন্টা আগে ভোর পাঁচটা থেকেই বুথে লম্বা লাইন। দিননভর বিভিন্ন বুথে ব্যস্ত থাকবেন তাই সকাল সকালই ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ালেন জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অশোক কান্ডারী।লাইনে দাঁড়িয়েই জানালেন তাঁর ভোটদান করার বুথে ব্যবস্থা ঠিক থাকলেও ক্যানিং ও কুলতলির কয়েকটি বুথে বিজেপির এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।অপরদিকে গোবিন্দপুর কালীচরন স্কুলের ৪৫ নং বুথে ভোট গ্রহণ চললেও বুথের মধ্যে তৃণমূল ছাড়া বিরোধী দলের কোনো এজেন্ট নেই এবং মিডিয়ার কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। একই অভিযোগ দমদম লোকসভার পানীহাটি বিধানসভার ঘোলা গার্লস হাইস্কুলের ১৫৫,১৫৮,১৫৯ও ১৬২ চার টি বুথে বিজেপি এজেন্টকে বসতে না দেওয়ার। আরো ভয়ঙ্কর অভিযোগ গোসাবার বিপ্রদাসপুরে ৫০ও৫১ নং বুথে বিজেপির এজেন্ট ঢুকতে দিচ্ছে না তৃনমূলের গুন্ডারা। বাইরে বন্দুক নিয়ে ঘুরছে।এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের জেরে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। দেগঙ্গা নূরনগর পঞ্চায়েতের ৯০ নম্বর বুথে শক্তি ঘোষ নামে এক বিজেপির কর্মীকে মাথায় বাঁশের বাড়ি মারলে মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক এলাকায় উত্তেজনা অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে|এদিকে দেগঙ্গার গিলাবেড়িয়া ৬৬,৬৭নং বুথে বোমাবাজি চলে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাল্টা তাড়া করলে দুষ্কৃতীরা বাইক ফেলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী।দুর্ভাগ্যের বিষয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকেও অভিযোগের আঙুল শাসক দলের।বারাসাত লোকসভার অন্তর্গত দেগঙ্গা বিধান সভার অন্তর্গত গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৪নং বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর অনুকূলে ভোট প্রভাবিত করার জন্য। এমনকি অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে প্রাণে মেরে ফেরার হুমকি দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।সেই কথা শুনে ঘটনা স্থলে আসেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।এসে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন সেন্ট্রাল বাহিনীর সাথে এবং সেন্ট্রাল বাহিনীর সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়েন।এরপর ঘটনাস্থলে থেকেই নির্বাচন কমিশনে নালিশ করেন কাকলি।এরপর উত্তেজিত কাকলি সেন্ট্রাল বাহিনীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। এই প্রসঙ্গে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ জানান রাজারহাট এলাকায় শান্তি পূর্ণ ভোট হচ্ছে। তবে দেগঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় তৃনমূল সন্ত্রাস চলাচ্ছে। এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোমাবাজি হচ্ছে। জেতার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী হয়েও তিনি বলেন তৃণমুল প্রার্থী কাকলী ঘোষ দস্তিদার তৃতীয় বার জেতার ব্যাপারে ব্যাপারে যে দাবি করেছেন সেটা ২৩ তারিখেই বোঝাযাবে কে জিতবে। তবে তিনি আশাবাদী বারাসাতে তিনিই জিতবেন। বারাসাতের ইকো নার্সিংহোমে আহত বিজেপি কর্মী শক্তি ঘোষকে দেখতে এসে তিনি এমনই জানান। তৃনমূল প্রার্থী কাকলী ঘোষ দস্তিদার সকালেই অভিযোগ করেছিলেন ভোট কিনতে বিজেপি টাকা ছড়াচ্ছে। মৃনাল বাবু এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।। অপর দিকে ডামন্ডহারবার বিধানসভার নুরপুর হাই মাদ্রাসা স্কুলের বুথে প্রতিবন্ধ ভোটারকে মারধরের অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।এদিকে পুনরায় খবরে আরাবুল। ভাঙড়ে আরাবুল বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভাঙর বিধানসভার পোলেরহাট দু নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ গাজীপুর এলাকার ঘটনা। পাওয়ার গ্রিড সংলগ্ন এই গাজীপুর এলাকার ৯২এবং ৯৩নম্বর বুথে ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মূলত পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীরা এই অভিযোগ তুলছে। ভোট দিতে গেলে তাদের কে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানায় তারা। পরে কাশিপুর থানার পুলিশ বাহিনী গিয়ে আবার ভোটারদের আশ্বাস দেওয়ায় তারা বুথমুখী হয়। যদিও আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওই দাপুটে তৃণমূল নেতা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।আবার বসিরহাটের মালঞ্চ কালীতলা ১৮৯ নম্বর বুথে বিজেপি সমর্থকদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। সায়ন্তন বসু ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান তিনি ভোটারদের নিয়ে বুথে পৌঁছে দেবেন। তারপর এলাকা ছাড়বেন। এদিকে অশোকনগর ১০ নং ওয়াডের ১ নং উন্নয়ন পরিষদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২ বুথে সিপিএম এর বুথে আক্রমনের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে l ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়।অপরদিকে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের শাসনের চক আমিনপুরে উত্তেজনা । কুইক রেসপন্স টিম আক্রান্ত । এলাকাবাসিদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের ভোট দেওয়ার সময় বলে দিচ্ছে বিজেপি কে ভোট দেওয়ার জন্য।পরে কিউআরটি ঢোকে,তাদের দেখে এলাকাবাসি পালায়।কেন্দ্রীয়বাহিনী ও কিউআরটিকে লক্ষ করে ইট মারে। এক স্থানীয় মহিলার অভিযোগ তার প্রতিবন্ধী ছেলের ওপর জোর জুলুম করে বিজেপিকে ভোট দিতে বলে কেন্দ্রীয় বাহিনী । ওই মহিলা স্বয়ং কিউআরটির গাড়ি লক্ষ করে ঢিল ছোঁড়েন। বিজেপির বক্তব্য তৃণমূল থেকে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।স্থানীয় পুলিশ ও বিএসএফ এলাকায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এ আনে।
সন্ত্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ইভিএম বিভ্রাটে জর্জরিত বিভিন্ন বুথ।বারাসাত লোকসভার হাবড়া বিধানসভার ২১১, ৯১, নম্বর বুথে ইভিএম খারাপ। মকপোলে ধরা পড়ে ত্রুটি বুথে টেকনিকাল লোকজন যায় সাড়াই করার উদ্দেশ্যে। ঠিক না হলে নইলে পাল্টে দেওয়া হবে। বলে জানা গেছে।বারাসাত লোকসভার অশোকনগর বিধানসভার কচুয়া ১৮০ নম্বর বুথে ইভিএম খারাপ থাকার দরুন ভোট বন্ধ ছিল বেশ কিছুক্ষন।হাবড়া দক্ষিণ নাংলা বালিকা বিদ্যলয়ে ১০০/৮৮ নম্বর বুথে ইভিএম খারাপ থাকার দরুন ভোট বন্ধ ছিল।বুথের বাইরে লম্বা লাইন দেখা দেয়।একই ঘটনা হাবড়ার বানিপুর আই টি আই কলেজে১৮৪ নং বুথে,বিলকান্ডা২নং পঞ্চায়েতের ২২৫নং বুথে।পানিহাটির 82 নম্বর বুথে ইভিএম খারাপ থাকায় প্রিসাইডিং অফিসার সেক্টর অফিসার কে জানানোর পরেও প্রায় এক ঘন্টা অতিক্রান্ত কোন সুরাহা হয়নি ভোটের ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বহুক্ষন।সেক্টর অফিসার কে জানানোর পরে তিনি আর কোন ফোন ধরেননি।দেগঙ্গার কলসুর তরফদার পাড়া ২৫৪ নম্বর বুথে সকাল থেকে ইভিএম খারাপের অভিযোগ ওঠে। ভোটাররা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল । প্রিজাইডিং অফিসার সূত্রে জানা যায় ভোট শুরুর আগে চল্লিশটি মকপোল হওয়ার পর থেকেই বিকল হয়ে পড়েছে ইভিএম মেশিন।এদিকে ভোট দিতে না পারায় বাসন্তি হাইওয়েতে অবোরোধ বিজেপি সমর্থকদের।
লোকসভা২০১৯এর আগের দফার ভোটগুলির মত সপ্তম দফাতেও ২৯টি রাজ্যের মধ্যে এবারো 'সোনার বাংলা'ই খবরের শিরোনামে
from বাংলা খবর http://bit.ly/2YJaNSb


No comments