সামান্য সর্দি-কাশি কিংবা শারীরিক সমস্যা হলেই চিকিৎসকের কাছে দৌড়ে যান কেউ কেউ। ওষুধ বা চিকিৎসার জন্য টাকা-পয়সা কিংবা সময় খরচও করেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কিন্তু বলছেন অন্য কথা। বাড়িতেই বেশ কিছু প্রাথমিক সমস্যার সমাধান থাকতে অযথা চিকিৎসকের চেম্বারে যেতে নিরুৎসাহিত করছেন তারা। তাদের মতে, বাড়িতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপাদান ব্যবহার করেই স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা যায় অনেকাংশে। অর্থাৎ নিজেই হয়ে যান ঘরের ডাক্তার। অন্ততপক্ষে প্রাথমিক চিকিৎসা তো নিতে পারবেন।
পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনযাপনের ওপর। তাই রোগব্যাধি এড়াতে ঘরেই বসেই প্রাথমিক সুস্থতার জন্য চর্চাটা শুরু করা যাক।
ধরা যাক, রান্নাঘরে একটু তাড়াতাড়ি করে সালাদ বানাতে গিয়ে হাত কেটে গেল। রক্তও ঝরে পড়ছে বেশ। একদম চেঁচামেচি নয়। মাথা ঠাণ্ডা করে বাড়িতেই কিছু টোটকা ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে পুরনো দিনের লোকেরা ডাক্তার দেখাতেন কম, কিন্তু হাতুড়ের কাছেও যেতেন না। বরং বাড়ির টোটকা ব্যবহার করে সুস্থ থাকতেন। হাত কেটে গেলে হলুদ পাউডার চেপে ধরলে রক্ত তৎক্ষণাৎ বন্ধ হবে। হলুদের অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদানে কাটার দাগও মিলিয়ে যাবে তাড়াতাড়ি। লোহায় কাটার ফলে প্রাথমিক যে ব্যথা হয়, তা হলুদের ফলে মরে যাবে।
অনেকেই আছেন ঋতু পরিবর্তনের সময় যাদের নানা রকমের র্যাশ বেরোয়। বসন্ত কালের দুর্ভাবনায় প্রথমেই গাদি গাদি ওষুধ লাগে। না না, টেস্ট করানোর আগে একটু অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার লাগান। র্যাশের জ্বালা বেশ কমবে। খুব সহজেই এ জিনিসটি যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি দ্রুত নিরাময়ও হবে।
বর্তমানকার চিকিৎসকরাও বলছেন, সামান্য কাটাছেঁড়াতেও ওষুধ আর গাদা গাদা অ্যান্টিবায়োটিক খান অনেকেই। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অনেক সময় বেশি অ্যান্টাসিড বা পেন কিলার মারণরোগের জন্ম দিতে পারে। তার চেয়ে প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে ডাবের পানি খেতে পারেন। দুধে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়েও খেতেন আগের দিনের মানুষ। এতে কেউ খুব একটা অসুস্থ হতেন না।
তবে সিজেনাল অনেক সিম্পটম চোখে পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কিন্তু সাধারণত সামান্য কাটাছেঁড়া অথবা ব্যথার উপশমে ঘরের টোটকা পদ্ধতি অনেক সময় ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
গৃহস্থালীর উপকরণের গুণাগুণের কথা শুধু চিকিৎসকই নন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ‘হু’-ও তার ওয়েবসাইটে ব্যথা নিরাময়ের এমন উপাদানের গুণাগুণ জানিয়েছে।
যেমন- চিনি বেশি খেলে শরীরে রোগ বাসা বাঁধবে, কিন্তু চিনিই আবার বাহ্যিক ক্ষত সারাতে ভীষণ উপকারী। বাচ্চাদের সামান্য রক্তপাত হলে, চিনির দানা ছড়িয়ে দিলে রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে অল্প সময়ের মধ্যে। এভাবেই চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু বাড়িতেই করে নিতে পারেন।
প্রায় ঘরেই মধু রাখা হয়। মধুর মধ্যে আছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। পুরনো ক্ষত বা ঘা থেকে পুঁজ হলে তা শরীরের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়। তবে মধু লাগালে সেই ক্ষত একেবারে শুকিয়ে যায়। পরবর্তী ইনফেকশনেরও চান্স নেই। গবেষণায় জানা গেছে, পোড়া জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে মধু লাগালে গভীর পোড়াও শুকোতে বেশি সময় লাগে না। বরং ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে।
বাড়িতে অ্যালোভেরার গাছ রাখলেও তা অনেক কাজে লাগতে পারে। মাছের কাঁটা লাগলে বা লোহাজাতীয় কিছুতে কাটা গেলে অ্যালোভেরার পাতা ভেঙে জেল জাতীয় উপাদান লাগালে দ্রুত নিরাময় হবে।
সকালের টি-ব্যাগটির কথা ভাবুন। ওটা ফেলে না দিয়ে কাজে লাগাতে পারেন। অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে টি-ব্যাগের বিকল্প নেই। এভাবেই বাড়ির ফেলে রাখা সাধারণ জিনিসও কাজে লাগতে পারে।
পানির কথাই ধরুন। ঠাণ্ডা-কাশি থাকলে কুসুমগরম পানিতে হালকা লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে উপকার নিশ্চিত।
গ্যাসের সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন, কমছেই না! একটু নজর দিন নিজের দিকে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই পেট ভরে পানি পান করুন। হাঁটাহাঁটি করুন কিছু সময়। এরপর গলায় আঙুল দিয়ে পানিগুলো ফেলে দিন। পুরনো এ পদ্ধতিকে বমনধুতি-ও বলে। মাসে একবার করতে পারেন। গ্যাস কমাতে বেশ কার্যকর এ পদ্ধতি।
তবে ফের সতর্ক করা যাচ্ছেন, সিজেনাল সমস্যা বা জটিল কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
from Daily Bangla http://bit.ly/2VA7VVx

No comments