যাঁরা পাহাড় বা রক ক্লাইম্বিং ভালবাসেন, তাঁরা এক-দু’দিনের জন্য বাঁকুড়ার এই পাহাড়ে ঘুরে আসতেই পারেন। মনে করা হয়, চতুর্থ শতকে রাজা চন্দ্রবর্মা এখানেই দুর্গ তৈরি করেছিলেন। প্রায় দেড় হাজার ফুট উঁচু এই পাহাড়ের চূড়ায় হেঁটে ওঠার রোমাঞ্চই আলাদা। পাহাড় চূড়া থেকে চারপাশের সবুজ দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেবে। পাহাড়ের পাদদেশেই রয়েছে একটি প্রস্রবণ। এছাড়া পাশেই বয়ে গিয়েছে গন্ধেশ্বরী নদী। রয়েছে মুরুতবাহা ইকো পার্ক। কাছেই ছাতনায় বিশালাক্ষী দেবীর প্রাচীন মন্দিরও দেখে নেওয়া যায়।
শীতে পিকনিক করার জনপ্রিয় জায়গা শুশুনিয়া। ওই সময় পাহাড় লাগোয়া এলাকায় রীতিমতো মেলা বসে যায়। গ্রামবাসীরা পাথরের তৈরি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেন। স্থানীয় প্যাঁড়াও যথেষ্ট জনপ্রিয়। শুশুনিয়া থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যেই মুকুটমণিপুর। একদিন শুশুনিয়ায় থেকে পরের দিন মুকুটমণিপুরও চলে যেতে পারেন।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরের এই পাহাড়ে ট্রেনে করে যেতে হলে আপনাকে নামতে হবে ছাতনা স্টেশনে। সেখান থেকে শুশুনিয়া প্রায় ১০ কিলোমিটারের রাস্তা। হাওড়া থেকে শিরোমণি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে ছাতনা পৌঁছতে। এছাড়া বাঁকুড়া গিয়ে বাসে করেও চলে যেতে পারেন শুশুনিয়া।
কোথায় থাকবেন: পাহাড়ের কাছেই স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘আরণ্যক’ নামে একটা গেস্ট হাউস রয়েছে। ২০১৪ সালে এখানে ‘ইয়ুথ হস্টেল’ও তৈরি হয়েছে একটা। এছাড়া রয়েছে বিলাসবহুল ‘রেড রক রিসর্ট’।
ঝাড়গ্রাম
শাল-মহুয়ায় ঘেরা ঝাড়গ্রাম ‘অরণ্য সুন্দরী’ হিসেবেই জনপ্রিয়। ভরা বর্ষা হোক বা শরতের মায়াবী পরিবেশ— সপ্তাহান্তের ছুটি কাটানোর জন্য সব সময়ই আদর্শ গন্তব্য।
শহরে দেখার মধ্যে রয়েছে ডিয়ার পার্ক, শতাব্দী প্রাচীন সাবিত্রী মন্দির, রবীন্দ্র পার্ক এবং রাজবাড়ি। রাজা এবং রাজবাড়ি ঘিরে প্রচলিত রয়েছে রোমাঞ্চকর সব ঘটনা। শহরের উপকণ্ঠে বাঁদরভুলায় সম্প্রতি তৈরি হয়েছে আদিবাসী সংগ্রহশালা। জঙ্গলমহলের প্রাচীন জাতি-উপজাতি সম্প্রদায়ের নিত্য ব্যবহার্য জিনিস-সহ কুটিরশিল্পের বহু নিদর্শন দেখতে পাবেন। যার অধিকাংশই বিলুপ্তির পথে। শহর ছাড়িয়ে ১৪-১৫ কিলোমিটার দূরেই চিল্কিগড়। সেখানে ডুলুং নদীর তীরেই রয়েছে কনকদুর্গা মন্দির। এছাড়া চিল্কিগড়ের রাজবাড়ি তো রয়েছেই। ফেরার পথে দেখে নিতে পারেন ভেষজ উদ্যান।
শরতে ঝাড়গ্রামের অন্য রূপ! শহরের খুব কাছেই বয়ে গিয়েছে কংসাবতী নদী। তার দুই তীর ছেয়ে থাকে কাশ ফুলে। কাশের সাদা চাদর আপনাকে মুগ্ধ করবেই। হাতে যদি একটু বেশি সময় নিয়ে যান, তাহলে ঝাড়গ্রাম থেকে চলে যেতে পারেন বেলপাহাড়ি, কাঁকড়াঝোর, গাড়রাসিনি, ঘাঘরা, সুবর্ণরেখার তীরে রামেশ্বরের মন্দির, কেতকী ঝরনা বা কেন্দুয়ার পরিযায়ী পাখিদের দেখতে।
কীভাবে যাবেন: ট্রেনে হাওড়া থেকে মাত্র ১৫৪ কিলোমিটার। সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের ইস্পাত এক্সপ্রেসে চাপলে সাড়ে ৯টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। বিকেলে যেতে চাইলে রয়েছে স্টিল এক্সপ্রেস। এছাড়া রয়েছে সাঁতরাগাছি প্যাসেঞ্জার। ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে গাড়িতেও যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন: বনবিভাগ এবং রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের কটেজ-কমপ্লেক্স রয়েছে। অনলাইনেই বুক করতে পারবেন। এছাড়া, রাজবাড়ির রিসর্ট, অরণ্য সুন্দরী হোটেল-সহ একাধিক গেস্ট হাউস রয়েছে শহরে। একটু নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে শহরের বাইরের গড় শালবনিতে রয়েছে কৌশল্যা হেরিটেজ। ‘ঝাড়গ্রাম টুরিজ্ম’এর ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন ‘প্যাকেজ ট্যুর’এর ব্যবস্থা।
from Daily Bangla http://bit.ly/2DNhme8

No comments