ইংল্যান্ডের এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বামী অথবা স্ত্রীর যে কেউ একজন মারা যাওয়ার পরবর্তী এক মাস বেঁচে থাকা অন্যজনের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে সর্বোচ্চ মাত্রায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব স্বামী-স্ত্রী একটু বেশি বয়সে তাদের সঙ্গী হারান, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি কম বয়সে সঙ্গী হারানোদের চেয়ে দ্বিগুণ।
কাছের মানুষ চলে যাবার ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের এ বৃদ্ধি পাওয়া ঝুঁকি এক মাস পর কমতে থাকে। তিন মাস পর যারা কোনো সঙ্গী হারাননি, ঠিক তাদের মতোই স্বাভাবিকতায় চলে আসে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এ গবেষণার আগে একই বিষয়ে আরো অনেক গবেষণা হয়েছে। সেস বে স্বামী-স্ত্রীর হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির যেসব কারণ উল্লেখ করা হয় সেগুলোর সঙ্গে এ গবেষণায় বাড়তি কারণ হিসেবেই দেখানো হয়েছে প্রিয় মানুষটির বিয়োগকে।
গবেষক বলেন, প্রিয় সঙ্গী বিয়োগের ফলে হঠাত্ হূদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেখানো হয়, এ ঝুঁকি কত বেশি পরিমাণে আছে। যেমন- ইংল্যান্ডে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে ৬০ থেকে ৮৯ বছর বয়সী ৩০ হাজার বয়স্ক স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন, যারা তাদের একজনকে আগেই হারিয়েছেন। ৮৩ হাজার একই ধরনের বয়স্ক সঙ্গী, যারা তাদের একজনকে হারিয়েছেন, এরা এখনো বেঁচে আছেন। গবেষণার প্রথম পর্যায় ৫০ জন যুগলের ওপর দেখা যায়, শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ মানুষ সঙ্গী হারানোর পরবর্তী এক মাসেই মারা গেছে অ্যাটাক বা স্ট্রোকে। আর শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ তাদের সঙ্গী হারিয়েও এক মাস পর দিব্যি বেঁচে আছে। গবেষক একই সময়ে বিবেচনা করেছিলেন যে, এ প্রিয় সঙ্গীর বিয়োগের ফলেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সঙ্গে আরো অনেক ঝুঁকি এসে যায়। যেমন-দীর্ঘস্থায়ী রোগ, হার্টের বিভিন্ন রোগ, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি।
লন্ডনের সেন্ট জর্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক জার্নালে বলেন, এ ঝুঁকিগুলো প্রিয় মানুষের মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট মনস্তাত্ত্বিক তীব্র শোকের কারণেই হয়ে থাকে। কীভাবে প্রিয় মানুষের মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট শোকে মানুষের হার্ট সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে, তার জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন। কিন্তু এ পর্যন্ত যত গবেষণা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, সঙ্গী বিয়োগের ফলে সৃষ্ট শোকের কারণেই বেঁচে থাকা অন্যজনের রক্তের চাপ হেরফের হয় এবং হরমন স্তর বৃদ্ধি পেয়ে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। গবেষক বলেন, সঙ্গী মারা যাওয়ার পর বেঁচে থাকা অন্যজন প্রিয় বিয়োগের শোক থেকে নিস্তার পেতে ইচ্ছুক থাকে না। এমনকি প্রায় ক্ষেত্রে সেও মরে যেতে চায়। গবেষক প্রতিকারের সুপারিশ করে বলেন, বাস্তবসম্মত অনেক কৌশল রয়েছে, যা তীব্র শোকের কারণে সৃষ্ট হার্টের ও স্ট্রোকের এমন বিভিন্ন রকম সমস্যার ঝুঁকি কমাতে বা সহনীয় মাত্রায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। দীর্ঘমেয়াদি এ ব্যবস্থা প্রিয় বিয়োগের আগে অথবা পরে উভয় সময়ই গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।
from Daily Bangla http://bit.ly/2Eg63v9

No comments