মাওবাদীদেরর হাতে খুন ও নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পরিবার গুলির যৌথমঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝাড়্গ্রাম শহরে মিছিল করে জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল। ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাওবাদীদের হাতে নিহত ও নিখোঁজ সদস্যদের পরিবার গুলি এদিন ঝাড়গ্রাম শহরের জামদা সার্কাস ময়দান থেকে মিছিল শুরু করে গোটা ঝাড়্গ্রাম শহর পরিক্রমা করে জেলা শাসকের অফিসে পৌছায়। মিছিলের জেরে গোটা শহর প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিন জেলা শাসকের অফিসে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে তাদের স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ ব্যারিকেড করে আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে জেলা শাসকের অফিসের দিকে এগিয়ে যায় যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। জেলা শাসকের অফিসে ঢোকার বেশ কিছুটা আগে দ্বিতীয় ব্যারিকেডে আটকানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে বচসা বাধে পরিবার গুলির। তারপর সেখানেই তারা অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামল দিতে পুলিশকে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। পরে আন্দোলনকরীদের পাঁচজন প্রতিনিধি জেলা শাসকের সাথে দেখা করেন।
গত বছরের জুনমাস থেকে মাওবাদীদের হাতে নিহত এবং অপহৃতদের পরিবারগুলির এই মঞ্চ ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরি সহ মোট দশ দফা দাবি নিয়ে পথে নেমে আন্দোলন শুরু করে। ২৬ জুন কয়েশো সদস্য ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক, জেলা সুপারের কাছে স্মারকলিপি জামা দিয়েছিলেন। মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল দাবি পূরণ না হলে তারা লাগাতার আন্দোলন চালেয়ে যাবে। পরে গত বছর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বেলপাহাড়িতে বিশাল মিছিল করে এবং শিলদা মোড়ে অবরোধ আন্দোলনে সামিল হয়। এদিন মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রথমে মিছিল করে এসে শহরের পাঁচমাথা মোড়ে কয়েকশো মহিলা,পুরুষেরা। মাওবাদী সন্ত্রাস পর্বে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ব্লকে মাওবাদীদের হাতে নিহত, আক্রমনে পঙ্গুর সংখ্যা প্রায় ৪২০ বলে দাবি মঞ্চের। প্রায় ৮০ জনের কাছাকছি আজও নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি মঞ্চের। দশ দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি গুলি হল শহীদ,নিখোঁজ,আহত পরিবার গুলিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দশ লক্ষ,রাজ্যের পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন ও প্রতিটি পরিবারকে একটি করে সরকারি চাকরি দিতে হবে এবং নিখোঁজদের মৃত বলে ঘোষণা করতে হবে। এই বিষয়ে ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক বলেন রাজ্য থেকে আমার কাছে নির্দেশ এসেছে একটি কমিটি গঠন করার জন্য। কমিটি গঠন করে ওদের দাবি গুলি সহানুভূতির সাথে দেখা হবে।


No comments