ক্যান্সার কি? এর প্রাথমিক লক্ষণ কোনগুলি হতে পারে? রইল কিছু সাধারন ধারণা - VD

Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Classic Header

Popular Posts

Breaking News:

latest

ক্যান্সার কি? এর প্রাথমিক লক্ষণ কোনগুলি হতে পারে? রইল কিছু সাধারন ধারণা

ক্যান্সার দুরারোগ্য ব্যাধি। যদিও, ক্যান্সারের নানা ধরনের চিকিৎসা আজকাল হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্যান্সারে সেসব চিকিৎসা বেশ কার্যকর বলেও প্রমাণিত, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু।

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বি…







ক্যান্সার দুরারোগ্য ব্যাধি। যদিও, ক্যান্সারের নানা ধরনের চিকিৎসা আজকাল হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্যান্সারে সেসব চিকিৎসা বেশ কার্যকর বলেও প্রমাণিত, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু।

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পরে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোনও চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরেনর চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিত্সা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারণভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে, যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিয়োপ্লাসিয়া (টিউমার) বলে, এবং সেরকম ক্রিয়াযুক্ত কোষকে নিয়োপ্লাস্টিক কোষ বলে। নিওপ্লাস্টিক কোষ আশেপাশের কলাকে ভেদ করতে না-পারলে তাকে বলে নিরীহ বা বিনাইন টিউমার। বিনাইন টিউমার ক্যান্সার নয়। নিওপ্লাসিয়া কলা ভেদক ক্ষমতা সম্পন্ন হলে তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার, এবং তার অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনক্ষম ভেদক ক্ষমতাযুক্ত কোষগুলিকে ক্যান্সার কোষ বলে। অনেক ক্যান্সার প্রথমে বিনাইন টিউমার হিসাবে শুরু হয়, পরে তার মধ্যেকার কিছু কোষ পরিবর্তিত (ট্রান্সফর্মেসন) হয়ে ম্যালিগন্যান্ট (অর্থাৎ ভেদক ক্ষমতাযুক্ত) হয়ে যায়। তবে বিনাইন টিউমার ক্যান্সারে পরিবর্তিত হবেই তার কোন নিশ্চয়তা নেই। কিছু বিনাইন টিউমারসদৃশ ব্যাধি আছে যাতে ক্যান্সার হওয়া অবশ্যম্ভাবী - এদের প্রি-ক্যান্সার বলে। নামে বিনাইন অর্থাৎ নিরীহ হলেও বিনাইন টিউমারও চাপ দিয়ে আশেপাশের কলার ক্ষতি করতে পারে। মেটাস্টাসিস হলো ক্যান্সারের একটি পর্যায়, যাতে ক্যান্সার কোষগুলি অন্যান্য কলাকে ভেদ করে ও রক্ত, লসিকাতন্ত্র (Lymphatic System) ইত্যাদির মাধ্যমে দূরবর্তী কলায় ছড়িয়ে যায়।

ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আগে থেকে বোঝা যায় -
• খুব ক্লান্ত বোধ করা
• ক্ষুধা কমে যাওয়া
• শরীরের যে কোন জায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া
• দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা
• মলত্যাগে পরিবর্তন আসা (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া)
• জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া
• অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা
• অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া
• ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া ইত্যাদি।

লক্ষণ হিসেবে যা কিছু বলা হলো, সেগুলোর এক বা একাধিক দেখা দিলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এসব লক্ষণ অন্য কোনো কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই ভয় না-পেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। 

No comments